Thursday, 15 January 2026
ই-পেপার

ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল নগরী, শীর্ষে জাকার্তা : জাতিসংঘ

admin | November 26, 2025

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা বিশ্বের বৃহত্তম জনবহুল শহর যেখানে ৪১.৯ মিলিয়ন মানুষ বাস করে। তার পরেই রয়েছে বাংলাদেশের ঢাকা, যেখানে ৩৬.৬ মিলিয়ন মানুষ বাস করে। জাতিসংঘের একটি নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানায় আলজাজিরা। বিভিন্ন দেশের শহরে বসবাসরত জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ এই প্রতিবেদনটি করেছে।

ঘনবসতিপূর্ণ জাভা দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত একটি নিম্ন-উপকূলীয় শহর জাকার্তা। শহরটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর থেকে উঠে এসে টোকিওকে হটিয়ে এক নম্বরে স্থান করে নিয়েছে। টোকিওকে ২০০০ সালে বিশ্বের বৃহত্তম শহর হিসেবে মনোনীত হয়েছিল জাতিসংঘ।

জাতিসংগের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জাপানের রাজধানী টোকিওর জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, ৩৩.৪ মিলিয়ন।

এ কারণে টোকিও এখন তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা নবম স্থান থেকে লাফিয়ে তৃতীয় স্থানে চলে এসেছে। ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্বের বৃহত্তম শহর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব ইকনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস ২০২৫ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বে মেগাসিটির সংখ্যা বেড়ে ৩৩-এ দাঁড়িয়েছে।

১৯৭৫ সালে বিশ্বব্যাপী মাত্র আটটি মেগাসিটি ছিল, এখন তার চারগুণ বেড়েছে।
বিশ্বের ৩৩টি মেগাসিটির মধ্যে ১৯টি এশিয়ায় অবস্থিত এবং শীর্ষ ১০টির মধ্যে নয়টি এশিয়ার। জাকার্তা, ঢাকা এবং টোকিও ছাড়াও শীর্ষ ১০টিতে থাকা অন্যান্য এশীয় শহরগুলো হলো,

১. নয়াদিল্লি, ভারত (৩০.২ মিলিয়ন)
২. সাংহাই, চীন (২৯.৬ মিলিয়ন)
৩. গুয়াংজু, চীন (২৭.৬ মিলিয়ন)
৪. ম্যানিলা, ফিলিপাইন (২৪.৭ মিলিয়ন)
৫. কলকাতা, ভারত (২২.৫ মিলিয়ন)
৬. দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল (২২.৫ মিলিয়ন)।

এশিয়ার বাইরে একমাত্র শহর হিসেবে শীর্ষ ১০-এ জায়গা পেয়েছে মিশরের কায়রো, যার জনসংখ্যা প্রায় ৩২ মিলিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রসহ আমেরিকা মহাদেশে সবচেয়ে বড় শহর হলো ব্রাজিলের সাও পাওলো (১৮.৯ মিলিয়ন)।

আর আফ্রিকার সাব–সাহারান অঞ্চলে দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ায় নাইজেরিয়ার লাগোস অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর হিসেবে উঠে এসেছে। এভাবেই বিশ্বজুড়ে নগরায়ণ দ্রুত বাড়ছে, এবং মেগাসিটির সংখ্যাও প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
এখনও বাড়ছে

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার দ্রুত প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে, গ্রামীণ এলাকা থেকে মানুষ রাজধানীতে চলে আসা অথবা বন্যা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো সমস্যার কারণে নিজ শহর ছেড়ে চলে আসা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে জাকার্তাও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে শহরের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত স্থল পানির তলায় তলিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি এতোটাই সংকটজনক যে, ইন্দোনেশিয়া সরকার নতুন একটি পরিকল্পিত রাজধানী নির্মাণ করছে বোরনিও দ্বীপের পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশে ‘নুসান্তারা’ নামে। সরকারি দপ্তর, প্রশাসনিক ভবনসহ অনেক অফিস সেখানে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবুও জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে জাকার্তায় আরও ১ কোটি মানুষ যুক্ত হবে, অর্থাৎ শহরের জনসংখ্যা আরো দ্রুত বাড়বে।

শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে বৈষম্য এবং ক্রয়ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দেবে। এ বছরের শুরুতে এসব সমস্যার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল।

এদিকে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের রাজধানী তেহরানে বর্তমানে সেখানে জনসংখ্যা নয় মিলিয়ন।

নতুন মূল্যায়নে জাতিসংঘ আগের অসঙ্গতিগুলো দূর করতে নগরায়নের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনেছে। বিভিন্ন দেশে শহরকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, সেই ভিন্নতা দূর করতেই এই পদক্ষেপ।

নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি শহর হলো এমন একটি এলাকা যেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে নূন্যতম ১ হাজার ৫০০ জন মানুষ বসবাস করে এবং মোট জনসংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হাজার হলে তবেই সেটিকে ‘শহর’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই প্রতিবেদনটি মূলত একক শহরের প্রকৃত আকার তুলে ধরে, তবে খুব সীমিত সংখ্যক ক্ষেত্রে পাশাপাশি বেড়ে ওঠা দুই শহরকে একত্রে গণনা করা হয়েছে।