Thursday, 15 January 2026
ই-পেপার

সৌদিতে ধূমপানের ওপর নিষেধাজ্ঞার বদলে বৈপ্লবিক উদ্যোগ

admin | November 13, 2025

সৌদি আরব জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে এক নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ‘হাম রিডাকশন’ বা ক্ষতি হ্রাসের কৌশলকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিই দেশের সেই পরিকল্পনার মূলভিত্তি, যার লক্ষ্য এক মিলিয়ন ধূমপায়ীকে ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করা।

শুরুতে এই লক্ষ্য অর্জনের সময়সীমা ধরা হয়েছিল ২০৩২ সাল পর্যন্ত, তবে এখন আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যেই তা পূরণ হবে। এই উদ্যোগ সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ এবং ‘কোয়ালিটি অব লাইফ’ প্রোগ্রামের অংশ, যার উদ্দেশ্য বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত উপায়ে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন।

যেসব দেশ নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ করের ওপর বেশি নির্ভর করে, সৌদি আরব তাদের থেকে ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। দেশটি মূলত সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত নিকোটিন পণ্যে সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সৌদি সরকার স্বীকার করছে, সব ধূমপায়ী একবারে ধূমপান ছাড়তে পারেন না, কিন্তু তারা কম ক্ষতিকর বিকল্পে যেতে পারেন, যা ব্যক্তিগত এবং জনস্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখবে। ডিজার্ট-এর মতো নিকোটিন পাউচে তামাক, দহন বা ধোঁয়া নেই ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের জন্য দায়ী অধিকাংশ ক্ষতিকর রাসায়নিক সম্পূর্ণভাবে দূর হয়ে যায়।

ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের গবেষণাগুলো এই মডেলকে সমর্থন করেছে, যেখানে দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিত এসব বিকল্প দহনযোগ্য সিগারেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ক্ষতিকর। সৌদি আরবের হাসপাতালগুলোর প্রাথমিক তথ্যও আশাব্যঞ্জক। সেখানে ধূমপান-সম্পর্কিত রোগের সংখ্যা কমছে, এবং জনসাধারণের মধ্যে ধূমপান ছাড়ার সহায়ক পণ্যের গ্রহণযোগ্যতাও দ্রুত বাড়ছে।

তামাক আসক্তি মোকাবিলায় সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করছে, নিষিদ্ধ করার চেয়ে নিরাপদ নিকোটিন বিকল্পকে সমর্থন করা অনেক বেশি কার্যকর ফলাফল দিতে পারে।

দেশটির পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর সহায়তায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বাদায়েল এখন পুরো অঞ্চলের তামাকবিরোধী উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাদায়েল-এর উদ্ভাবনী পণ্য ডিজার্ট (যা সৌদি আরবে তৈরি প্রথম তামাকমুক্ত নিকোটিন পাউচ)-এর মাধ্যমে ধূমপায়ীরা সিগারেট থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে। প্রতিষ্ঠার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪ লাখ ধূমপায়ীকে ধূমপান থেকে দূরে সরে আসতে সহায়তা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পুরোপুরি নিকোটিন ত্যাগ করেছেন।
চলতি বছরের শুরুতে বাদায়েল তাদের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘লেটস ক্লিয়ার দ্যা এয়ার’ শীর্ষক প্রচারণা শুরু করে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিলো ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক এবং সরকারি পর্যায়ে সবাইকে একত্রিত করে একটি তামাকমুক্ত সৌদি আরব গড়ে তোলা।

অন্যদিকে বাংলাদেশে এখনো প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৩৫% তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেন, এবং প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ তামাকজনিত রোগে প্রাণ হারান। এ অবস্থায় শুধুমাত্র সচেতনতা ও করনীতি দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে ধূমপায়ীরা আসক্তির চক্রেই বছরের পর বছর আটকে থাকবে।

সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, উদ্ভাবনী বিকল্প পণ্য নিষিদ্ধ করলে উল্টো ফল হতে পারে। এতে ধূমপায়ীরা আবারও বেশি ক্ষতিকর অভ্যাসে ফিরে যান। এর পরিবর্তে দেশটি শিক্ষা, সহজপ্রাপ্যতা ও সঠিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এক বাস্তবসম্মত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যেখানে কীভাবে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করেও মানুষের পছন্দের স্বাধীনতা বজায় রাখা যায়। নিরাপদ বিকল্পকে সমর্থন করা তামাক নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করে না—বরং আরো শক্তিশালী করে তোলে। আর এভাবে একটি তামাকমুক্ত টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।