পুষ্টিগুণ-সমৃদ্ধ ও সহজলভ্য একটি খাবার হচ্ছে দুধ। এটি এমন একটি খাবার, যাতে রয়েছে আমাদের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান। তবে অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা করতে পারে এই খাবার। তাই আজ জানাব এই খাবার খেতে কারা সতর্ক থাকবেন।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক—
পুষ্টিবিদ ডা. প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘অবশ্যই দুধে প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান আছে, কিন্তু আমরা যদি শুধু দুধ খাই, অন্য জিনিস না খেলে তা আমাদের পাকস্থলীতে ফাইবারের ঘাটতি ঘটায়। যা ভালো ব্যাকটেরিয়া কমিয়ে দেয়। এমন অবস্থায় কয়েক দিন ভালো থাকবে। কিন্তু তারপর নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করবে।
হ্যাঁ, অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করলে তা শরীরের জন্য খুবই উপকারী হবে।’
প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পানের উপকারিতা
দুধে সব প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড পাওয়া যায়, যা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর মতো অনেক ধরনের খনিজ পদার্থ এতে রয়েছে। এটি দাঁত ও হাড় উভয়ের জন্য একটি পাওয়ার হাউস।
যা দাঁত ও হাড়কে মজবুত রাখে।
দুধ প্রোটিনের ভাণ্ডার, তাই এটি শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে আপনার শরীরে শক্তি বাড়বে। দুধে ভিটামিন বি১২ রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণজনিত রোগ থেকে রক্ষা করে। দুধ খেলে শরীরে পানির অভাব হবে না।
তাই এটি পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া দুধ খেলে হার্ট ও হাড়ের রোগ হবে না।
তবে ক্ষতি কার?
চিকিৎসকরা বলেন, অনেকের অন্ত্রের দুধ হজম করার ক্ষমতা থাকে না। আসলে, দুধে ল্যাকটোজ নামক একটি যৌগ থাকে, যার জন্য ল্যাকটেজ এনজাইম প্রয়োজন। এই ল্যাকটেজ এনজাইম ল্যাকটোজকে ভেঙে গ্যালাকটোজ অর্থাৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যা রক্তে যায়।
কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে ল্যাকটেজ এনজাইম কম উৎপন্ন হয়। সেই কারণে তারা দুধ খাওয়ার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তাই এমন ব্যক্তিরা যদি প্রতিদিন দুধ পান করেন তাহলে তাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ দুধ অসহিষ্ণু। এর মানে এত মানুষ দুধ থেকে সামান্য উপকার পান।
সূত্র : নিউজ ১৮